Q: How does
Occupational Therapy help in developing social skills?
অকুপেশনাল থেরাপি বা বৃত্তিমূলক
থেরাপি বা পেশাগত থেরাপি সাধারণত শারীরিক বা মানসিক সীমাবদ্ধতা থাকা ব্যক্তিদের দৈনন্দিন
কাজ বা 'অকিউপেশন'-এ স্বাবলম্বী করতে সাহায্য করে। তবে এর একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ
দিক হলো সামাজিক দক্ষতার উন্নয়ন। বিশেষ করে
অটিজম, ADHD বা সামাজিক ভীতি থাকা শিশুদের এবং বড়দের ক্ষেত্রে অকুপেশনাল থেরাপি চমৎকার
কাজ করে।
v সামাজিক দক্ষতা বৃদ্ধিতে বৃত্তিমূলক থেরাপি
বা পেশাগত থেরাপির ভূমিকাঃ
১.
কার্যকর যোগাযোগের প্রশিক্ষণঃ সামাজিক দক্ষতার প্রথম ধাপ হলো যোগাযোগ। অকুপেশনাল থেরাপিস্টরা
ব্যক্তিকে শেখান কীভাবে অন্যের কথা মন দিয়ে শুনতে হয় এবং নিজের মনের ভাব স্পষ্ট করে
প্রকাশ করতে হয়। এটি বাচনিক এবং অবাচনিক উভয় পদ্ধতিতেই শেখানো হয়। যেমন—কথার সময় চোখের দিকে তাকানো, সঠিক অঙ্গভঙ্গি এবং গলার স্বরের
ওঠানামা নিয়ন্ত্রণ করা।
২.
সংবেদনশীল প্রক্রিয়াকরণ ও নিয়ন্ত্রণঃ অনেক সময় ব্যক্তি অতিরিক্ত শব্দ বা ভিড়ের কারণে অস্বস্তিবোধ
করেন, ফলে তারা সামাজিক পরিবেশ এড়িয়ে চলেন। থেরাপিস্টরা 'সেন্সরি ইন্টিগ্রেশন' পদ্ধতির
মাধ্যমে ব্যক্তিকে পরিবেশের বিভিন্ন উদ্দীপকের সাথে মানিয়ে নিতে শেখান। যখন একজন ব্যক্তি
তার স্নায়বিক উত্তেজনা নিয়ন্ত্রণ করতে পারেন, তখন তার জন্য অন্যদের সাথে মেলামেশা করা
অনেক সহজ ও আনন্দদায়ক হয়ে ওঠে।
৩.
খেলাধুলার মাধ্যমে দক্ষতা বৃদ্ধিঃ শিশুদের ক্ষেত্রে খেলার মাধ্যমেই সামাজিকীকরণের হাতেখড়ি হয়।
অকুপেশনাল থেরাপিতে শিশুদের দলগতভাবে খেলতে দেওয়া হয়। এখানে তারা পর্যায় অনুসরণ করা,
জেতা বা হার মেনে নেওয়া এবং সহপাঠীদের সাথে খেলনা ভাগ করে নেওয়ার মতো মৌলিক সামাজিক
নিয়মগুলো শেখে। এই ছোট ছোট অভ্যাসগুলোই পরবর্তী জীবনে বড় সামাজিক সংগতিবিধানে সাহায্য
করে।
৪.
সামাজিক পরিস্থিতি অনুকরণ বা রোল প্লেঃ থেরাপিস্টরা প্রায়ই বিভিন্ন বাস্তবধর্মী পরিস্থিতির কৃত্রিম
মহড়া বা 'রোল প্লে' করান। যেমন—দোকান থেকে কিছু
কেনা, রেস্তোরাঁয় অর্ডার দেওয়া বা নতুন কোনো বন্ধুর সাথে পরিচিত হওয়া। এই নিরাপদ পরিবেশে
বারবার অনুশীলনের ফলে ব্যক্তির জড়তা কেটে যায় এবং বাস্তব জীবনে তারা আত্মবিশ্বাসের
সাথে সামাজিক মিথস্ক্রিয়া করতে পারে।
৫.
সমস্যা সমাধান ও সিদ্ধান্ত গ্রহণঃ সামাজিক মেলামেশার সময় অনেক সময় দ্বন্দ্ব বা ভুল বোঝাবুঝি তৈরি
হতে পারে। অকুপেশনাল থেরাপি ব্যক্তিকে শেখায় কীভাবে শান্ত থেকে সেই সমস্যার সমাধান
করতে হয়। অন্যের দৃষ্টিভঙ্গি বুঝতে পারা এবং সহমর্মিতা প্রকাশ করার ক্ষমতা বৃদ্ধির
ওপর এখানে বিশেষ জোর দেওয়া হয়।
৬.
দৈনন্দিন রুটিন ও সামাজিক রীতিনীতিঃ সমাজে টিকে থাকতে গেলে কিছু অলিখিত নিয়ম মেনে চলতে হয়। থেরাপিস্টরা
ব্যক্তিকে সামাজিক শিষ্টাচার, ব্যক্তিগত পরিচ্ছন্নতা এবং জনসমক্ষে আচরণের ধরণ সম্পর্কে
শিক্ষিত করেন। যেমন—কারো ব্যক্তিগত পরিসরে প্রবেশ না করা
বা অন্যদের কথা বলার মাঝখানে বাধা না দেওয়া।
৭.
আত্মবিশ্বাস ও আত্মমর্যাদা বৃদ্ধিঃ যখন একজন ব্যক্তি দক্ষতার সাথে ছোট ছোট সামাজিক কাজ সম্পন্ন
করতে পারেন, তখন তার আত্মবিশ্বাস বেড়ে যায়। অকুপেশনাল থেরাপি ব্যক্তিকে তার নিজের ক্ষমতা
সম্পর্কে ইতিবাচক ধারণা দেয়, যা তাকে নতুন নতুন সামাজিক পরিবেশে অংশগ্রহণ করতে উৎসাহিত
করে।
পরিশেষে বলা যায়, অকুপেশনাল
থেরাপি কেবল হাতের কাজ বা ব্যায়াম নয়, এটি ব্যক্তিকে সমাজের মূলধারায় ফিরিয়ে আনার একটি
বিজ্ঞানসম্মত প্রচেষ্টা। একজন থেরাপিস্ট ব্যক্তির ব্যক্তিগত প্রয়োজন অনুযায়ী কাস্টমাইজড
প্ল্যান তৈরি করেন, যা তাকে কেবল স্বাবলম্বী করে না, বরং একজন সামাজিক মানুষ হিসেবে
মর্যাদার সাথে বেঁচে থাকতে সাহায্য করে। এটি ব্যক্তির বিচ্ছিন্নতা দূর করে এবং জীবনের
গুণগত মান বৃদ্ধি করে।
জ্ঞ্যানজ্যোতি কোচিং সেন্টার
তোমাদের উজ্বল ভবিষ্যৎ গড়ে তুলব আমরা, এটাই আমাদের প্রতিশ্রুতি
অনলাইনে কোচিং নিতে হলে এবং বিভিন্ন নোট নিতে হলে এই নাম্বারে কল করুন।

