Q. Trace the
development of Shaivism in North Bengal.
উত্তরবঙ্গের
ধর্মীয় ইতিহাসে শৈব ধর্ম এক প্রাচীন ও প্রভাবশালী স্থান দখল করে আছে। এই অঞ্চলের ভৌগোলিক
অবস্থান এবং হিমালয়ের সান্নিধ্য শৈব ধর্মের প্রসারে বিশেষ সহায়তা করেছে, কারণ পৌরাণিক
মতে হিমালয় হলো শিবের আবাসস্থল। প্রাচীন কামরূপ ও পুণ্ড্রবর্ধনের অংশ হিসেবে উত্তরবঙ্গে
শৈব ধর্মের অস্তিত্বের প্রমাণ পাওয়া যায় বিভিন্ন শিলালিপি ও তাম্রশাসনে। পাল আমলের
বৌদ্ধ ধর্মের প্রাবল্য থাকলেও সাধারণ মানুষের মধ্যে শিবের উপাসনা অব্যাহত ছিল। সেন
রাজবংশের সময়, বিশেষ করে রাজা বিজয় সেন ও লক্ষ্মণ সেনের আমলে শৈব ধর্ম রাজকীয় পৃষ্ঠপোষকতা
লাভ করে। এই সময়ে শিবকে 'উমাপতি-ধর' বা 'সদাশিব' রূপে পূজা করার প্রচলন বৃদ্ধি পায়,
যা উত্তরবঙ্গের উচ্চবর্ণের মানুষের মধ্যে শৈব সংস্কৃতিকে সুপ্রতিষ্ঠিত করে।
মধ্যযুগে
উত্তরবঙ্গের শৈব ধর্মের বিকাশে কোচ রাজবংশের ভূমিকা ছিল অনস্বীকার্য। কোচ রাজাদের আরাধ্য
দেবতা ছিলেন শিব। কোচবিহারের মহারাজা বিশ্বসিংহ শিবের প্রতি গভীর অনুরাগী ছিলেন এবং
তিনি বহু জরাজীর্ণ শিব মন্দির সংস্কার করেন। লোকশ্রুতি অনুযায়ী, কোচ রাজবংশের উৎপত্তিও
মহাদেব বা শিবের আশীর্বাদপুষ্ট বলে মনে করা হয়। কোচ রাজাদের পৃষ্ঠপোষকতায় জল্পেশ মন্দির
এবং বাণেশ্বর শিব মন্দিরের মতো স্থাপত্যগুলো উত্তরবঙ্গের প্রধান তীর্থক্ষেত্রে পরিণত
হয়। এই সময়ে শৈব ধর্ম কেবল রাজপরিবারের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকেনি, বরং তা সাধারণ মানুষের
লোকসংস্কৃতির সঙ্গে মিশে গিয়েছিল। শিব এখানে কেবল সংহারকর্তা নন, বরং একজন কৃষিদেবতা
ও সাধারণ গৃহস্থ হিসেবে পূজিত হতে শুরু করেন।
উত্তরবঙ্গের
শৈব ধর্মের একটি অনন্য বৈশিষ্ট্য হলো এর 'লোকায়ত রূপ' বা আর্য ও অনার্য সংস্কৃতির মেলবন্ধন।
এই অঞ্চলের আদিবাসী জনজাতি যেমন— রাজবংশী, মেচ ও রাভাদের মধ্যে শিবের উপাসনা
এক বিশেষ মাত্রা পায়। তারা শিবকে 'বুড়াঠাকুর' বা 'মহারাজা' হিসেবে সম্বোধন করেন। গম্ভীরা
ও শিবের গাজন উৎসব উত্তরবঙ্গের লোকসংস্কৃতির অবিচ্ছেদ্য অংশ, যেখানে শিবকে কেন্দ্র
করে গান ও নৃত্যের মাধ্যমে সাধারণ মানুষের সুখ-দুঃখের কথা প্রকাশ পায়। লোকায়ত শিবের
এই রূপটি শাস্ত্রীয় শিবের চেয়ে অনেক বেশি নমনীয় এবং সাধারণ মানুষের কাছের। কোচবিহারের
জল্পেশ মন্দিরকে কেন্দ্র করে শ্রাবণী মেলা বা শিবরাত্রির উৎসব আজও উত্তরবঙ্গের সর্ববৃহৎ
ধর্মীয় মিলনোৎসবে পরিণত হয়।
পরিশেষে
বলা যায়, উত্তরবঙ্গে শৈব ধর্মের বিকাশ কোনো একক পথে হয়নি। একদিকে যেমন রাজকীয় পৃষ্ঠপোষকতায়
শাস্ত্রীয় ও স্থাপত্যনির্ভর শৈব ধর্মের উন্নতি ঘটেছে, অন্যদিকে লোকজ ঐতিহ্যে শিব হয়ে
উঠেছেন প্রান্তিক মানুষের প্রাণের দেবতা। বৌদ্ধ ও নাথ ধর্মের প্রভাব পেরিয়ে শৈব ধর্ম
যেভাবে উত্তরবঙ্গের জনজীবনে মিশে গেছে, তা আজও এই অঞ্চলের মন্দির স্থাপত্য, মেলা এবং
জীবনযাত্রায় সুস্পষ্ট। উত্তরবঙ্গের আদিম তান্ত্রিক ধারা এবং বৈষ্ণব ধর্মের প্রসারের
মাঝেও শৈব ধর্ম নিজের স্বকীয়তা বজায় রেখে এই অঞ্চলের প্রধান ধর্মীয় ধারা হিসেবে টিকে
আছে।
জ্ঞ্যানজ্যোতি কোচিং সেন্টার
তোমাদের উজ্বল ভবিষ্যৎ গড়ে তুলব আমরা, এটাই আমাদের প্রতিশ্রুতি
অনলাইনে কোচিং নিতে হলে এবং বিভিন্ন নোট নিতে হলে এই নাম্বারে কল করুন।

