Q. Examine the
development of Jainism in Early Medieval North Bengal.
§ আদি মধ্যযুগীয় উত্তরবঙ্গে
জৈন ধর্মের বিকাশ:
আদি
মধ্যযুগের উত্তরবঙ্গ, যা তৎকালীন সময়ে প্রধানত 'পুন্ড্রবর্ধন' নামে পরিচিত ছিল, জৈন
ধর্মের অন্যতম প্রধান কেন্দ্র হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। খ্রিস্টীয় সপ্তম শতাব্দীতে
চিনা পরিব্রাজক হিউয়েন সাঙ যখন এই অঞ্চল পরিদর্শন করেন, তখন তিনি উল্লেখ করেছিলেন
যে এখানে অসংখ্য 'নিগ্রন্থ' বা জৈন সন্ন্যাসী বসবাস করতেন। পঞ্চম শতাব্দীর 'পাহাড়পুর
তাম্রশাসন' থেকে জানা যায় যে, বর্তমান নওগাঁ জেলার বটগোয়ালী নামক স্থানে একটি সুসংগঠিত
জৈন বিহার ছিল। এটি প্রমাণ করে যে আদি মধ্যযুগের শুরুতেই উত্তরবঙ্গে জৈন ধর্ম কেবল
ব্যক্তিগত বিশ্বাসে সীমাবদ্ধ ছিল না, বরং তা প্রাতিষ্ঠানিক ও মঠকেন্দ্রিক রূপ লাভ করেছিল।
পাল রাজাদের আমলে বৌদ্ধ ধর্মের জয়জয়কার থাকলেও জৈন সমাজ তাদের নিজস্ব অস্তিত্ব ও প্রভাব
বজায় রাখতে সক্ষম হয়েছিল।
উত্তরবঙ্গের
জৈন ধর্মের বিকাশে দিগম্বর সম্প্রদায়ের প্রাধান্য ছিল সবচেয়ে বেশি। মালদহ, দিনাজপুর
এবং রাজশাহী অঞ্চলের বিভিন্ন স্থান থেকে উদ্ধার হওয়া জৈন তীর্থঙ্করদের মূর্তিগুলো এর
প্রধান প্রমাণ। এই মূর্তিগুলো সাধারণত কষ্টিপাথরের তৈরি এবং দিগম্বর রীতি অনুযায়ী উলঙ্গ
অবস্থায় 'কায়োৎসর্গ' বা 'ধ্যান' মুদ্রায় খোদাই করা। প্রত্নতাত্ত্বিক গবেষণায় উত্তরবঙ্গের
বরেন্দ্র অঞ্চল থেকে প্রচুর পরিমাণে প্রথম তীর্থঙ্কর ঋষভনাথ এবং ২৩তম তীর্থঙ্কর পার্শ্বনাথের
মূর্তি পাওয়া গেছে। এই মূর্তিগুলোর শৈল্পিক উৎকর্ষ থেকে বোঝা যায় যে, আদি মধ্যযুগের
উত্তরবঙ্গে একটি স্বতন্ত্র জৈন ভাস্কর্য শিল্পকলা গড়ে উঠেছিল, যা সমসাময়িক পাল বা
সেন যুগের হিন্দু ও বৌদ্ধ শিল্পের সমান্তরালে বিকশিত হয়েছিল।
আদি
মধ্যযুগে উত্তরবঙ্গে জৈন ধর্মের টিকে থাকার পেছনে প্রধান চালিকাশক্তি ছিল বণিক বা শ্রেষ্ঠী
সম্প্রদায়। উত্তরবঙ্গ তৎকালীন সময়ে বাণিজ্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হওয়ায় জৈন
বণিকরা এই ধর্মের প্রসারে প্রভূত অর্থ দান করতেন। জৈন ধর্মের 'অহিংসা' নীতি বণিক শ্রেণির
কাছে অত্যন্ত গ্রহণযোগ্য ছিল, কারণ তারা কৃষিকাজ বা যুদ্ধের মতো পেশা থেকে দূরে থাকতে
পছন্দ করতেন। রাজকীয় পৃষ্ঠপোষকতা সরাসরি না থাকলেও এই বণিক শ্রেণির আর্থিক সহায়তায়
উত্তরবঙ্গের বিভিন্ন স্থানে সুদৃশ্য জৈন মন্দির ও মঠ নির্মিত হয়েছিল। এছাড়া এই সময়ে
জৈন ধর্মের মধ্যে স্থানীয় লোকজ দেবদেবীর প্রভাব লক্ষ্য করা যায়; যক্ষ ও যক্ষিণীদের
মূর্তিও তীর্থঙ্করদের পাশাপাশি স্থান পেতে শুরু করে, যা এই ধর্মের সামাজিক গ্রহণযোগ্যতা
বাড়িয়েছিল।
পরিশেষে,
দ্বাদশ শতাব্দীর শেষভাগ থেকে উত্তরবঙ্গে জৈন ধর্মের প্রভাব কমতে শুরু করে। সেন রাজবংশের
আমলে ব্রাহ্মণ্য হিন্দুধর্মের পুনরুত্থান এবং পরবর্তীতে বজ্রযানী বৌদ্ধধর্মের তান্ত্রিক
ক্রিয়াকলাপের জনপ্রিয়তা জৈন ধর্মের সরল ও কঠোর অনুশাসনকে কিছুটা ম্লান করে দেয়। অনেক
ক্ষেত্রে পূর্বতন জৈন মন্দিরগুলো হিন্দু মন্দিরে রূপান্তরিত হয় অথবা জৈন দেবদেবীরা
হিন্দু দেবমণ্ডলীর অন্তর্ভুক্ত হয়ে যান। তা সত্ত্বেও, আদি মধ্যযুগের উত্তরবঙ্গের শিল্প,
স্থাপত্য এবং নৈতিক ঐতিহ্যে জৈন ধর্মের অবদান অনস্বীকার্য। ত্রয়োদশ শতাব্দীতে তুর্কি
আক্রমণের আগে পর্যন্ত উত্তরবঙ্গের সামাজিক ও সাংস্কৃতিক কাঠামোয় জৈন ধর্ম একটি গুরুত্বপূর্ণ
স্তম্ভ হিসেবে কাজ করেছে।
জ্ঞ্যানজ্যোতি কোচিং সেন্টার
তোমাদের উজ্বল ভবিষ্যৎ গড়ে তুলব আমরা, এটাই আমাদের প্রতিশ্রুতি
অনলাইনে কোচিং নিতে হলে এবং বিভিন্ন নোট নিতে হলে এই নাম্বারে কল করুন।

