প্রশ্নঃ তাম্রলিপ্ত জাতীয় সরকার সম্পর্কে টীকা
লেখো।
ভারত
ছাড়ো আন্দোলন পর্বে বাংলা তথা ভারতের নানা প্রান্তে যেসব স্বাধীন জাতীয় সরকার প্রতিষ্ঠিত
হয়েছিল, তাম্রলিপ্ত জাতীয় সরকার ছিল সেগুলির মধ্যে অন্যতম।
§ তাম্রলিপ্ত জাতীয় সরকারের
প্রতিষ্ঠাঃ
ভারত
ছাড়ো আন্দোলনের আবহে 1942 খ্রিস্টাব্দের 17 ডিসেম্বর মেদিনীপুরের তমলুকে প্রতিষ্ঠিত
হয় তাম্রলিপ্ত জাতীয় সরকার। সুতাহাটা, নন্দীগ্রাম, মহিষাদল ও তমলুক-এই চারটি থানা এলাকা
তাম্রলিপ্ত জাতীয় সরকারের নিয়ন্ত্রনাধীন ছিল।
§ তাম্রলিপ্ত জাতীয় সরকারের
নেতৃত্বঃ
এই সরকারের
সর্বাধিনায়ক ছিলেন বিশিষ্ট গান্ধিবাদী নেতা সতীশচন্দ্র সামন্ত। তাঁর দুই প্রধান সহযোগী
ছিলেন অজয় মুখার্জী ও সুশীলচন্দ্র খাঁড়া।
§ তাম্রলিপ্ত জাতীয় সরকারের
কর্মকান্ডঃ
ভারত
ছাড়ো আন্দোলনের সময় তাম্রলিপ্ত জাতীয় সরকার ব্রিটিশ বিরোধী সর্বাত্মক আন্দোলনে শামিল
হয়। এই সরকারের নেতৃত্বে স্থানীয় যুবকদের নিয়ে গড়ে ওঠে ‘বিদ্যুৎ বাহিনী' নামক স্বেচ্ছাসেবক
সেনাদল আর নারীদের নিয়ে প্রতিষ্ঠিত হয় ভগিনী সেনা'। এরা মূলত যুদ্ধে আহত সেনাদের সেবা-শুশ্রূষা
ও ত্রাণকার্যে অংশ নিত। এই সরকারের মুখপত্র ছিল 'বিপ্লবী'। ব্রিটিশ বিরোধীতার পাশাপাশি
1942 খ্রিস্টাব্দের ঘূর্ণিঝড়ে আক্রান্ত মেদিনীপুরে ত্রাণ সংগ্রহ ও বণ্টনের কাজে সক্রিয়
ভূমিকা নিয়েছিল তাম্রলিপ্ত জাতীয় সরকার। সালিশি সভার আয়োজন করে গ্রাম্য বিবাদের নিষ্পত্তিতে
এই সরকার উদ্যোগ নিয়েছিল।
§ তাম্রলিপ্ত জাতীয় সরকারের
অবসানঃ
বিপুল
উদ্দীপনা জাগিয়ে শুরু হলেও এই সরকারের আয়ুষ্কাল ছিল মাত্র 1 বছর 7 মাস 22 দিন।
(1942 খ্রিস্টাব্দের 17 ডিসেম্বর -1944 খ্রিস্টাব্দের ৪ আগস্ট)।শেষপর্যন্ত ব্রিটিশের
প্রত্যাঘাত এবং ভারত ছাড়ো আন্দোলনের ব্যর্থতার মধ্য দিয়ে এই সরকারের পতন ঘটে।
§ তাম্রলিপ্ত জাতীয়
সরকারের মন্তব্যঃ
ব্যর্থতা
সত্ত্বেও ব্রিটিশ বিরোধী আপোসহীন সংগ্রামে এই সরকারের ভূমিকা বিশেষ উল্লেখের দাবি রাখে।
পরাধীন বাংলার এখানেই প্রথম স্বাধীনতার পতাকা উত্তোলিত হয়।
জ্ঞ্যানজ্যোতি কোচিং সেন্টার
তোমাদের উজ্বল ভবিষ্যৎ গড়ে তুলব আমরা, এটাই আমাদের প্রতিশ্রুতি
অনলাইনে কোচিং নিতে হলে এবং বিভিন্ন নোট নিতে হলে এই নাম্বারে কল করুন।

