১৯৪৩ সালের দুর্ভিক্ষের কারণ
কারণসমূহ (Causes)
১৯৪৩
সালের দুর্ভিক্ষের প্রধান কারণগুলো ছিল নিম্নরূপ:
১.
সামরিক ও ঔপনিবেশিক নীতি
খাদ্য
মজুত ও সরবরাহ নীতি:
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় ব্রিটিশ সরকার
যুদ্ধের প্রয়োজনে এবং সৈন্যদের জন্য
বিপুল পরিমাণ খাদ্যশস্য মজুত করে। ফলে
স্থানীয় বাজারে খাদ্য সরবরাহ কমে যায় এবং
দাম হু হু করে
বাড়তে থাকে।
(বর্মায়
চাল আমদানি বন্ধ:) জাপান কর্তৃক বার্মা (বর্তমান মায়ানমার) দখল হওয়ায় বাংলাতে
চাল আমদানি সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যায়।
বাংলা বার্মার আমদানিকৃত চালের উপর অনেকাংশে নির্ভরশীল
ছিল।
প্রত্যাহার'
নীতি ('Denial
Policy'): জাপানি
আক্রমণ প্রতিরোধের আশঙ্কায় ব্রিটিশ সরকার উপকূলীয় জেলাগুলোতে (যেমন মেদিনীপুর, বাকেরগঞ্জ, খুলনা) নৌযান (নৌকা ও লঞ্চ) এবং উদ্বৃত্ত ধান-চাল বাজেয়াপ্ত বা ধ্বংস করে দেয়। এতে শুধু পরিবহন ব্যবস্থা ভেঙে পড়েনি, মাছ ধরাও ব্যাহত হয় এবং খাদ্য বিতরণের পদ্ধতি সম্পূর্ণ বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে।
অকার্যকর
সরকারি হস্তক্ষেপ: সরকার জুন ১৯৪২-এ চালের সর্বোচ্চ দাম বেঁধে দিয়ে আদেশ জারি করলেও, এটি হিতে বিপরীত হয়; সরবরাহ বাজারে অদৃশ্য হয়ে যায়। দুর্ভিক্ষের তীব্রতা সত্ত্বেও ব্রিটিশ সরকার আন্তর্জাতিক সাহায্য নিতেও রাজি ছিল না।
২.
অর্থনৈতিক কারণ
মুদ্রাস্ফীতি
ও ক্রয়ক্ষমতার পতন: যুদ্ধ পরিচালনার খরচ মেটাতে সরকার ব্যাপকভাবে নোট মুদ্রণ করায় চরম মুদ্রাস্ফীতি দেখা দেয়। খাদ্যসহ সকল পণ্যের দাম অত্যাধিক বেড়ে যায়। অর্থনীতিবিদ অমর্ত্য সেনের মতে, পর্যাপ্ত খাদ্য থাকা সত্ত্বেও 'অধিকারের ব্যর্থতা' (Entitlement
Failure)-র কারণেই দুর্ভিক্ষ হয়েছিল। অর্থাৎ, দাম বেড়ে যাওয়ায় সমাজের গরিব মানুষ, যেমন দিনমজুর, জেলে ও ছোট কৃষকরা, খাদ্য কেনার ক্ষমতা হারিয়ে ফেলে।
মজুতদারি
ও কালোবাজারি: যুদ্ধকালীন আতঙ্কের সুযোগ নিয়ে অসাধু ব্যবসায়ী ও মজুতদাররা বিপুল পরিমাণ খাদ্যশস্য গুদামজাত করে রাখে, যা কৃত্রিম অভাব সৃষ্টি করে এবং দাম বাড়িয়ে দেয়।
৩.
প্রাকৃতিক কারণ
ঘূর্ণিঝড়
ও ফসলহানি: ১৯৪২ সালের অক্টোবরে বাংলার উপকূলীয় জেলাগুলোতে (বিশেষত মেদিনীপুর, ২৪ পরগনা) এক শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড় আঘাত হানে। এর ফলে ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয় এবং অনেক লবণাক্ত জল ধানক্ষেতে ঢুকে যাওয়ায় পরবর্তী ফসলেরও ক্ষতি হয়।
ধানের রোগ: ঘূর্ণিঝড়ের পর ফসলে ব্রাউন স্পট রোগ (Brown Spot Disease) ছড়িয়ে পড়ে, যা ১৯৪২ সালের শেষদিকের আমন ধানের ফলনে ঘাটতি সৃষ্টি করে।
জ্ঞ্যানজ্যোতি কোচিং সেন্টার
তোমাদের উজ্বল ভবিষ্যৎ গড়ে তুলব আমরা, এটাই আমাদের প্রতিশ্রুতি
অনলাইনে কোচিং নিতে হলে এবং বিভিন্ন নোট নিতে হলে এই নাম্বারে কল করুন।

