প্রাচীন বাংলা ভাষার কালপর্ব নির্ণয় করো। বৈশিষ্ট্যগুলি আলোচনা করো।

Nil's Niva
0

1. প্রাচীন বাংলা ভাষার কালপর্ব নির্ণয় করো। বৈশিষ্ট্যগুলি আলোচনা করো।

প্রাচীন বাংলা ভাষার সময়পর্ব দশম শতাব্দী থেকে দ্বাদশ শতাব্দী পর্যন্ত। এ যুগের সাহিত্যিক নিদর্শন আমরা পাব হরপ্রসাদ শাস্ত্রী আবিষ্কৃত 'চর্যাশ্চর্যবিনিশ্চয়' গ্রন্থে। এ ছাড়াও এ যুগের সাহিত্যিক নিদর্শন পাওয়া যাবে বন্দ্যঘটীয় সর্বানন্দ রচিত অমরকোষ ব্যাখ্যা 'টীকাসর্বস্ব', বৌদ্ধ কবি ধর্মদাসের 'বিদগ্ধ-মুখ মণ্ডনম' ও সেক শুভোদয়ার রচিত কিছু গান ও ছড়ায়।

ধ্বনিতাত্ত্বিক বৈশিষ্ট্য: এ ভাষার ধ্বনিতাত্ত্বিক বৈশিষ্ট্যগুলি হল-

১. সমযুক্তব্যঞ্জন একক হল এবং পূর্ববর্তী হ্রস্বধ্বনি দীর্ঘ হল। নাসিক্য ব্যঞ্জনধ্বনি ক্ষীণ হয়ে অনেক সময় সানুনাসিক স্বরধ্বনিতে পরিণত হল।

যথা-ধর্ম > ধাম, জন্ম > জাম।

2. পদের শেষে স্বরধ্বনি বজায় ছিল, তবে অনেক সময় যুক্তস্বর (ইঅ) 'ই' কারে পরিণত হল।

যথা- ভনতি > ভনই, জ্বলিত > জ্বলিঅ।

3. অনেক সময় পাশাপাশি অবস্থিত স্বরধ্বনির মাঝে 'য়' ধ্বনি শ্রুতিধ্বনি রূপে প্রবেশ করত।

যথা- নিকটে নিঅড্ডী > নিয়ড্ডী > নিয়ডি।

4. স্বরমধ্যবর্তী একক মহাপ্রাণ ধ্বনি অনেক সময় 'হ' কারে পরিণত হত।

 যথা- মহাসুখ > মহাসুহ, কথন কহন।

 

5. এই ভাষায় 'শ' ধ্বনির স্থানে 'স' ধ্বনির ব্যবহার লক্ষ করা যায়।

যথা-আশা > আস।

 

রূপতাত্ত্বিক বৈশিষ্ট্য: এ ভাষার রূপতাত্ত্বিক বৈশিষ্ট্যগুলি হল-

1. এই ভাষার সম্বন্ধ পদ গঠিত হত (এর, অর, রে) বিভক্তি দ্বারা।

যথা-রুখের তেন্ডুলী, ডোম্বী এর সঙ্গে।

2. এই ভাষায় গৌণকর্ম ও সম্প্রদানের পদ গঠিত হত (ক, কে, রে) বিভক্তি দ্বারা।

যথা-নাশক, বাহবকে পরাই।

3. প্রাচীন বাংলা ভাষায় কর্তৃকারকে শূন্য বিভক্তির প্রাধান্য লক্ষ করা যায়।

যথা-চঞ্চল চীএ পইঠা কাল।

4. প্রাচীন বাংলা ভাষায় অধিকরণ কারকের বিভক্তি ছিল, যথাক্রমে-'ই', 'এ', 'তে'।

 যথা-নিয়ড্ডী, ঘরে।

5. এই ভাষায় ভবিষ্যৎ কালের ক্রিয়ারূপ গঠিত হত 'ইব' যোগ করে।

যথা-মই ভাইব।

6. প্রাচীন বাংলা ভাষায় ছন্দ ছিল পাদাকুলক ছন্দ।

 

জ্ঞ্যানজ্যোতি কোচিং সেন্টার

তোমাদের উজ্বল ভবিষ্যৎ গড়ে তুলব আমরা, এটাই আমাদের প্রতিশ্রুতি

অনলাইনে কোচিং নিতে হলে এবং বিভিন্ন নোট নিতে হলে এই নাম্বারে কল করুন।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন (0)
bookstore