Q: Explain the
impact of the Narmada Bachao Movement on environmental policy.
নর্মদা বাঁচাও আন্দোলন ভারতের পরিবেশ আন্দোলনের ইতিহাসে কেবল
একটি প্রতিবাদী কর্মসূচি নয়, বরং এটি উন্নয়নের প্রচলিত সংজ্ঞা এবং রাষ্ট্রীয় পরিবেশ
নীতিকে চ্যালেঞ্জ করার এক শক্তিশালী হাতিয়ার। আশির দশকের মাঝামাঝি সময়ে শুরু হওয়া এই
আন্দোলন ভারতের পরিবেশগত শাসনব্যবস্থা ও আইনি কাঠামোতে আমূল পরিবর্তন আনতে বাধ্য করেছে।
v পরিবেশ নীতির ওপর নর্মদা
বাঁচাও আন্দোলনের প্রভাবঃ
১. পরিবেশগত প্রভাব মূল্যায়নঃ নর্মদা বাঁচাও আন্দোলনের
অন্যতম বড় প্রভাব হলো সরকারি প্রকল্পগুলোতে পরিবেশগত প্রভাব মূল্যায়ন প্রক্রিয়াকে গুরুত্ব
দেওয়া। এই আন্দোলনের আগে বড় বড় উন্নয়নমূলক প্রকল্পগুলো পরিবেশের ওপর কী প্রভাব ফেলবে,
তা নিয়ে বিশেষ চিন্তাভাবনা করা হতো না। মেধা পাটেকর ও বাবা আমতে বারবার প্রশ্ন তুলেছিলেন
যে, একটি বিশাল বাঁধ নির্মাণের ফলে কত লক্ষ গাছ কাটা যাবে এবং স্থানীয় বাস্তুসংস্থানের
কী অপূরণীয় ক্ষতি হবে। এর ফলে ১৯৯৪ সালে ভারত সরকার EIA বিজ্ঞপ্তি জারি করে বড় প্রকল্পের
ক্ষেত্রে পরিবেশগত ছাড়পত্র নেওয়া বাধ্যতামূলক করে।
২. পুনর্বাসন ও ক্ষতিপূরণ নীতিতে পরিবর্তনঃ নর্মদা আন্দোলনের
আগে ভারতে কোনো সুসংগত জাতীয় পুনর্বাসন নীতি ছিল না। সরকার কেবল উচ্ছেদ হওয়া মানুষকে
কিছু টাকা দিয়ে দায় সারত। নর্মদা বাঁচাও আন্দোলন প্রথম দাবি তোলে যে, কেবল টাকা নয়,
বরং উচ্ছেদ হওয়া মানুষকে 'জমির বিনিময়ে জমি' এবং উন্নত জীবনযাত্রার নিশ্চয়তা দিতে হবে।
এই চাপের মুখে ভারতের নীতিনির্ধারকরা ২০০৭ সালে 'জাতীয় পুনর্বাসন ও পুনঃস্থাপন নীতি'
এবং পরবর্তীকালে ২০১৩ সালে ‘ভূমি অধিগ্রহণ ও পুনর্বাসন আইন’ পাশ করতে বাধ্য হন। এটি
ভারতীয় নাগরিক অধিকার রক্ষার ইতিহাসে এক বড় মাইলফলক।
৩. আন্তর্জাতিক অর্থলগ্নি ও বিশ্বব্যাংকের অবস্থান
পরিবর্তনঃ নর্মদা বাঁচাও আন্দোলনই প্রথম ভারতের কোনো স্থানীয় আন্দোলন হিসেবে
আন্তর্জাতিক স্তরে প্রভাব ফেলেছিল। আন্দোলনের তীব্রতার কারণে বিশ্বব্যাংক বাধ্য হয়েছিল
একটি নিরপেক্ষ তদন্ত কমিটি গঠন করতে। এই কমিটি প্রকল্পের পরিবেশগত ও মানবিক ত্রুটিগুলো
ধরিয়ে দেয়, যার ফলে ১৯৯৩ সালে বিশ্বব্যাংক নর্মদা প্রকল্প থেকে তাদের আর্থিক সমর্থন
প্রত্যাহার করে নেয়। এটি বৈশ্বিক পরিবেশ নীতিতে একটি নজির স্থাপন করে যে, কোনো আন্তর্জাতিক
সংস্থা স্থানীয় মানুষের অধিকার ক্ষুণ্ণ করে এমন প্রকল্পে অর্থায়ন করতে পারবে না।
৪. টেকসই উন্নয়নের ধারণা প্রসারঃ নর্মদা আন্দোলন উন্নয়নের
প্রচলিত মডেলে ‘বড় বাঁধ’ বা ‘মেগা প্রজেক্ট’-এর পরিবর্তে বিকল্প ও ছোট ছোট প্রকল্পের
প্রয়োজনীয়তাকে সামনে নিয়ে আসে। এই আন্দোলন নীতি নির্ধারকদের বোঝাতে সক্ষম হয় যে, উন্নয়ন
মানে কেবল জিডিপি বাড়ানো নয়, বরং তা হতে হবে পরিবেশবান্ধব ও অন্তর্ভুক্তিমূলক। এর প্রভাবেই
বর্তমানে ভারতে নদী অববাহিকা ব্যবস্থাপনা এবং বৃষ্টির জল সংরক্ষণের মতো ছোট আকারের
প্রকল্পগুলোতে অনেক বেশি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
৫. বিচারবিভাগীয় সক্রিয়তা ও পরিবেশ আদালতঃ নর্মদা আন্দোলন চলাকালীন
ভারতের উচ্চ আদালতে একাধিক মামলা করা হয়। যদিও শেষ পর্যন্ত বাঁধের উচ্চতা বাড়ানোর অনুমতি
দেওয়া হয়েছিল, কিন্তু সুপ্রিম কোর্ট পরিবেশগত ও পুনর্বাসন সংক্রান্ত বিষয়গুলোতে অত্যন্ত
কঠোর নির্দেশিকা জারি করে। এই দীর্ঘ আইনি লড়াই ভারতে জাতীয় পরিবেশ আদালত গঠনের পথ প্রশস্ত
করেছিল, যাতে পরিবেশ সংক্রান্ত মামলাগুলোর দ্রুত ও বিশেষায়িত নিষ্পত্তি সম্ভব হয়।
৬. তথ্যের অধিকার ও জনশুনানিঃ আন্দোলনের মাধ্যমে
দাবি তোলা হয়েছিল যে, যেকোনো প্রকল্পের বিশদ বিবরণ সাধারণ মানুষের কাছে উন্মুক্ত রাখতে
হবে। এর ফলে পরিবেশ সংক্রান্ত ছাড়পত্র দেওয়ার আগে ‘জনশুনানি’ বাধ্যতামূলক করার নীতি
গ্রহণ করা হয়। এটি ভারতের পরিবেশগত গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করেছে, যেখানে স্থানীয় মানুষ
সরাসরি নীতিনির্ধারণী প্রক্রিয়ায় অংশ নিতে পারেন।
পরিশেষে বলা যায়, নর্মদা বাঁচাও আন্দোলন কেবল নর্মদা নদীর জল
বা তীরবর্তী মানুষের লড়াই ছিল না; এটি ছিল ভারতের পরিবেশগত ন্যায়বিচারের এক বলিষ্ঠ
কণ্ঠস্বর। এই আন্দোলনের প্রভাবেই ভারত সরকার উন্নয়ন এবং পরিবেশের ভারসাম্যের গুরুত্ব
বুঝতে পেরেছে। আজ যখন ভারতে কোনো বড় প্রকল্প গ্রহণ করা হয়, তখন পুনর্বাসন ও পরিবেশ
রক্ষার বিষয়গুলোকে এড়িয়ে যাওয়া আর সম্ভব হয় না। নর্মদা বাঁচাও আন্দোলন আমাদের শিখিয়েছে
যে, মানুষের অধিকার এবং প্রকৃতির নিরাপত্তা ছাড়া কোনো উন্নয়নই দীর্ঘস্থায়ী বা প্রকৃত
উন্নয়ন হতে পারে না। ভারতের বর্তমান ও ভবিষ্যৎ পরিবেশ নীতিতে এই আন্দোলনের প্রভাব চিরকাল
অম্লান থাকবে।
জ্ঞ্যানজ্যোতি কোচিং সেন্টার
তোমাদের উজ্বল ভবিষ্যৎ গড়ে তুলব আমরা, এটাই আমাদের প্রতিশ্রুতি
অনলাইনে কোচিং নিতে হলে এবং বিভিন্ন নোট নিতে হলে এই নাম্বারে কল করুন।

