Q. What was the
Kaivarta Revolt? Analyze its nature and impact on the Pala dynasty.
§ কৈবর্ত বিদ্রোহ:
কৈবর্ত
বিদ্রোহের সূত্রপাত হয়েছিল পাল সম্রাট দ্বিতীয় মহীপালের অদূরদর্শী ও অত্যাচারী শাসনের
প্রতিবাদে। সন্ধ্যাকর নন্দীর ‘রামচরিতম’ কাব্য থেকে এই বিদ্রোহের
বিস্তারিত বিবরণ পাওয়া যায়। মহীপাল তাঁর ভাই রামপাল ও শূরপালকে বন্দী করলে এবং প্রজাদের
ওপর অন্যায় কর ও নিপীড়ন শুরু করলে বরেন্দ্রর সামন্তচক্র ও সাধারণ মানুষ বিক্ষুব্ধ
হয়ে ওঠে। এই সুযোগে কৈবর্ত নায়ক দিব্য এক বিশাল সেনাবাহিনী গঠন করে মহীপালকে যুদ্ধে
পরাজিত ও নিহত করেন এবং বরেন্দ্র অঞ্চলে এক স্বাধীন কৈবর্ত শাসন প্রতিষ্ঠা করেন। দিব্যের
পর তাঁর ভাই রুদোক এবং পরবর্তীতে রুদোকের পুত্র ভীম বরেন্দ্রর শাসক হন। ভীম একজন অত্যন্ত
জনপ্রিয় ও দক্ষ শাসক ছিলেন, যিনি দীর্ঘকাল পালদের হাত থেকে বরেন্দ্রকে মুক্ত রাখতে
সক্ষম হয়েছিলেন। পরিশেষে, রামপাল উত্তরবঙ্গের অন্যান্য সামন্তদের সহায়তায় ভীমকে পরাজিত
ও হত্যা করে পুনরায় পাল শাসন প্রতিষ্ঠা করেন।
§ বিদ্রোহের প্রকৃতি:
এই বিদ্রোহের
প্রকৃতি বিশ্লেষণ করলে দেখা যায় যে, এটি কেবল একটি সাধারণ সামরিক অভ্যুত্থান ছিল না।
অনেক ঐতিহাসিক একে একটি 'গণ-অভ্যুত্থান' বা 'কৃষক বিদ্রোহ' হিসেবে অভিহিত করেছেন। কারণ,
কৈবর্তরা মূলত মৎস্যজীবী বা কৃষিজীবী সম্প্রদায় ছিল এবং তাদের সঙ্গে বরেন্দ্রর স্থানীয়
সাধারণ মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ ছিল। তবে এর পেছনে রাজনৈতিক উচ্চাকাঙ্ক্ষী সামন্তদের
ভূমিকাও অনস্বীকার্য ছিল। এটি ছিল বাংলার ইতিহাসে কেন্দ্রীয় শক্তির বিরুদ্ধে আঞ্চলিক
শক্তির প্রথম সফল বিদ্রোহ। সন্ধ্যাকর নন্দী একে 'অধৰ্ম' বা অরাজকতা হিসেবে বর্ণনা করলেও,
আধুনিক ঐতিহাসিকদের মতে এটি ছিল পালদের দুঃশাসনের বিরুদ্ধে শোষিত মানুষের পুঞ্জীভূত
ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ।
পাল
রাজবংশের ওপর এই বিদ্রোহের প্রভাব ছিল সুদূরপ্রসারী এবং নেতিবাচক। প্রথমত, এই বিদ্রোহ
পাল সাম্রাজ্যের সামরিক দুর্বলতাকে জনসমক্ষে প্রকাশ করে দেয়। যদিও রামপাল বরেন্দ্র
উদ্ধার করতে সক্ষম হয়েছিলেন, কিন্তু এর জন্য তাঁকে অসংখ্য ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র সামন্তের
ওপর নির্ভর করতে হয়েছিল। ফলে কেন্দ্রীয় শাসন দুর্বল হয়ে পড়ে এবং সামন্তরা শক্তিশালী
হয়ে ওঠে। দ্বিতীয়ত, এই দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধ বিগ্রহের ফলে পালদের অর্থনৈতিক ভিত্তি অত্যন্ত
দুর্বল হয়ে পড়েছিল। বরেন্দ্র হাতছাড়া হওয়া মানে ছিল পালদের পৈতৃক বাসভূমি ও উর্বর
কৃষি অঞ্চল হারানো, যা সাম্রাজ্যের স্থিতিশীলতাকে নষ্ট করে দেয়।
পরিশেষে
বলা যায়, কৈবর্ত বিদ্রোহ ছিল পাল রাজবংশের পতনের পথপ্রদর্শক। রামপাল সাময়িকভাবে সাম্রাজ্যের
গৌরব পুনরুদ্ধার করলেও তাঁর পরবর্তী উত্তরসূরিরা এই ধাক্কা সামলে উঠতে পারেননি। এই
বিদ্রোহের ফলেই বাংলায় পালদের দীর্ঘ চারশ বছরের শাসনের ভিত্তি নড়বড়ে হয়ে যায় এবং সেন
রাজবংশের উত্থানের পথ প্রশস্ত হয়। বরেন্দ্রর ওপর পালদের নিরঙ্কুশ আধিপত্য চিরতরে বিলুপ্ত
হওয়ার পেছনে কৈবর্ত বিদ্রোহই ছিল প্রধান কারণ।
জ্ঞ্যানজ্যোতি কোচিং সেন্টার
তোমাদের উজ্বল ভবিষ্যৎ গড়ে তুলব আমরা, এটাই আমাদের প্রতিশ্রুতি
অনলাইনে কোচিং নিতে হলে এবং বিভিন্ন নোট নিতে হলে এই নাম্বারে কল করুন।

