Q: What is social philosophy? Explain the nature of social philosophy.

Nil's Niva
0

Q: What is social philosophy? Explain the nature of social philosophy. 

v সামাজিক দর্শনঃ

মানুষ সামাজিক জীব। আদিম যুগ থেকে বর্তমান পর্যন্ত মানুষের অস্তিত্ব ও বিকাশ সমাজের ওপর নির্ভরশীল। এই সমাজ এবং সমাজের সঙ্গে ব্যক্তির সম্পর্ক যখন দার্শনিক দৃষ্টিভঙ্গি থেকে বিচার-বিশ্লেষণ করা হয়, তখন তাকে সামাজিক দর্শন বলা হয়। এটি দর্শনের এমন একটি শাখা যা সমাজের মৌলিক কাঠামো, আদর্শ, মূল্যবোধ এবং সামাজিক প্রতিষ্ঠানগুলোর যৌক্তিক ভিত্তি নিয়ে আলোচনা করে।

সাধারণভাবে বলা যায়, সমাজ সম্পর্কিত দার্শনিক আলোচনাকেই সামাজিক দর্শন বলে। বিভিন্ন দার্শনিক একে বিভিন্নভাবে সংজ্ঞায়িত করেছেন:

অধ্যাপক ম্যাকেনজি তাঁর মতে, "সামাজিক দর্শন হলো সমাজের মৌলিক নীতিসমূহের বৌদ্ধিক অনুসন্ধান।"

গিন্সবার্গ তিনি মনে করেন, সামাজিক দর্শন হলো সামাজিক ঘটনাপ্রবাহের ব্যাখ্যা এবং তাদের আদর্শগত মূল্যায়ন।

এলউড তাঁর মতে, সামাজিক দর্শন হলো সমাজবিজ্ঞানের সেই শাখা যা সামাজিক জীবনের লক্ষ্য এবং আদর্শ নিয়ে আলোচনা করে।

সহজ কথায়, সমাজ কী, কেন এবং কেমন হওয়া উচিতএই প্রশ্নগুলোর উত্তর খোঁজার প্রচেষ্টাই হলো সামাজিক দর্শন।


v সামাজিক দর্শনের প্রকৃতিঃ

সামাজিক দর্শনের প্রকৃতি (Nature) বলতে এই শাস্ত্রের অন্তর্নিহিত বৈশিষ্ট্য, কাজের ধরন এবং এটি সমাজকে দেখার ক্ষেত্রে কী ধরনের দৃষ্টিভঙ্গি গ্রহণ করে তাকে বোঝায়। সামাজিক দর্শনের প্রকৃতি আলোচনা করলে নিম্নলিখিত দিকগুলো স্পষ্ট হয়ে ওঠে।

১. আদর্শনিষ্ঠ বিজ্ঞানঃ সামাজিক দর্শন কেবল সমাজকে 'যেমন আছে' তেমনভাবে বর্ণনা করে না (যা সমাজবিজ্ঞান করে), বরং সমাজ 'কেমন হওয়া উচিত' তা নিয়ে আলোচনা করে। এটি সমাজের প্রচলিত রীতিনীতি, আইন এবং প্রতিষ্ঠানগুলোর নৈতিক মূল্য বিচার করে। ন্যায়বিচার, স্বাধীনতা ও সাম্যের মতো আদর্শগুলো একটি সমাজে কতটুকু প্রতিফলিত হচ্ছে, তা যাচাই করাই এর প্রধান কাজ।

২. সামগ্রিক দৃষ্টিভঙ্গিঃ সমাজবিজ্ঞানের বিভিন্ন শাখা (যেমন: অর্থনীতি বা রাষ্ট্রবিজ্ঞান) সমাজের নির্দিষ্ট কোনো দিক নিয়ে আলোচনা করে। কিন্তু সামাজিক দর্শনের প্রকৃতি হলো সমগ্র সমাজকে একটি অখণ্ড সত্তা হিসেবে দেখা। এটি বিভিন্ন সামাজিক বিজ্ঞানের লব্ধ জ্ঞানকে একত্রিত করে একটি পূর্ণাঙ্গ সামাজিক চিত্র তুলে ধরে।

৩. বিচারমূলক বিশ্লেষণঃ সামাজিক দর্শন কোনো সামাজিক প্রথা বা অন্ধবিশ্বাসকে বিনা তর্কে গ্রহণ করে না। এটি সমাজের ভিত্তিগুলোর যৌক্তিকতা পরীক্ষা করে। যেমনরাষ্ট্রের উৎপত্তির পেছনে চুক্তি নাকি বিবর্তন কাজ করেছে, অথবা পরিবারের নৈতিক ভিত্তি কীএসব প্রশ্নের যৌক্তিক ও দার্শনিক বিশ্লেষণ প্রদান করা এর অন্যতম বৈশিষ্ট্য।

৪. সমাজ ও ব্যক্তির সম্পর্কের অনুসন্ধানঃ সামাজিক দর্শনের প্রকৃতির একটি বড় অংশ জুড়ে রয়েছে ব্যক্তি ও সমাজের পারস্পরিক অবস্থান নির্ণয় করা। ব্যক্তি কি কেবল সমাজের একটি অংশ, নাকি ব্যক্তির বিকাশের জন্যই সমাজের অস্তিত্ব? ব্যক্তিবাদ ও সমষ্টিবাদের এই দ্বন্দ্বের মীমাংসা করাই এই শাস্ত্রের প্রকৃতি।

৫. সামাজিক পরিবর্তনের পথপ্রদর্শকঃ সামাজিক দর্শন কেবল তাত্ত্বিক আলোচনা নয়, এটি পরিবর্তনের দিশারি। দাসপ্রথা বিলোপ, নারীর অধিকার প্রতিষ্ঠা বা বর্ণবাদ বিরোধী আন্দোলনের মূলে ছিল গভীর সামাজিক দর্শন। এটি প্রচলিত ব্যবস্থার অসংগতি ধরিয়ে দিয়ে এক উন্নততর সমাজ ব্যবস্থার স্বপ্ন দেখায়।

৬. সামাজিক পরিবর্তনের দিকনির্দেশকঃ সামাজিক দর্শন স্থিতিশীল নয়, এটি প্রগতিশীল। সমাজ পরিবর্তনের গতিপ্রকৃতি এবং সামাজিক বিবর্তনের লক্ষ্য কী হওয়া উচিত, সে বিষয়ে এটি বৌদ্ধিক দিকনির্দেশনা প্রদান করে। একটি শোষণমুক্ত ও মানবিক সমাজ গঠনের যৌক্তিক পথ এটিই উন্মোচন করে।

v

পরিশেষে বলা যায়, সামাজিক দর্শন কেবল পুঁথিগত বিদ্যা নয়, বরং এটি একটি জীবনমুখী শাস্ত্র। এটি আমাদের শেখায় কীভাবে একটি সুন্দর, ন্যায়ভিত্তিক এবং সুশৃঙ্খল সমাজ গড়ে তোলা সম্ভব। আধুনিক বিশ্বে যখন সামাজিক মূল্যবোধের অবক্ষয় ঘটছে, তখন সামাজিক দর্শনের গুরুত্ব অপরিসীম। এটি মানুষের চিন্তাশক্তিকে প্রসারিত করে এবং সমাজকে নতুন আঙ্গিকে দেখার দৃষ্টি দান করে।


জ্ঞ্যানজ্যোতি কোচিং সেন্টার

তোমাদের উজ্বল ভবিষ্যৎ গড়ে তুলব আমরা, এটাই আমাদের প্রতিশ্রুতি

অনলাইনে কোচিং নিতে হলে এবং বিভিন্ন নোট নিতে হলে এই নাম্বারে কল করুন।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন (0)
bookstore