Q. Describe the main
features of Pala and Sena sculpture.
প্রাচীন
বাংলার শিল্পকলা ও ভাস্কর্যের ইতিহাসে পাল ও সেন আমল ছিল এক সৃজনশীল স্বর্ণযুগ। পাল
রাজাদের পৃষ্ঠপোষকতায় অষ্টম থেকে দ্বাদশ শতাব্দী পর্যন্ত যে শিল্পরীতি বিকশিত হয়েছিল,
তা মূলত 'প্রাচ্য শিল্পরীতি' নামে পরিচিত। পাল ভাস্কর্যের প্রধান বৈশিষ্ট্য হলো এর
উপাদানে কালো কষ্টিপাথর বা 'ব্যাসাল্ট' পাথরের ব্যবহার। এই আমলের ভাস্কর্যগুলো সাধারণত
'স্থাণক' (দণ্ডায়মান) বা 'আসন' (উপবিষ্ট) ভঙ্গিতে নির্মিত হতো এবং এগুলোর পেছনের অংশে
একটি অলঙ্কৃত চালচিত্র বা 'প্রভাবলী' থাকত।
পাল
যুগের মূর্তিনির্মাণে বৌদ্ধ ধর্মীয় প্রভাব ছিল অত্যন্ত স্পষ্ট; বুদ্ধের জীবন কাহিনী,
বোধিসত্ত্ব এবং বিভিন্ন বৌদ্ধ দেব-দেবীর মূর্তিতে এক ধরণের শান্ত ও আধ্যাত্মিক ভাব
ফুটে উঠত। তবে মূর্তির সামনের অংশ যতটা নিখুঁতভাবে খোদাই করা হতো, পেছনের অংশটি প্রায়শই
ততটা মসৃণ থাকত না। ধীমান ও বীতপাল ছিলেন এই যুগের দুই প্রখ্যাত শিল্পী, যাদের নেতৃত্বে
ভাস্কর্যের রূপরেখা ও অলঙ্করণ এক অনন্য উচ্চতায় পৌঁছেছিল।
পরবর্তীকালে
দ্বাদশ শতাব্দীতে সেন রাজবংশের শাসনকালে ভাস্কর্য শিল্পে এক নতুন ধারার সূচনা হয়। সেন
যুগের ভাস্কর্য পাল যুগের তুলনায় অনেক বেশি অলঙ্কারপ্রধান ও জাগতিক সৌন্দর্যের অনুসারী
ছিল। সেন শাসকরা হিন্দু ধর্মের পৃষ্ঠপোষক হওয়ায় এই সময় বিষ্ণু, শিব, সূর্য এবং বিভিন্ন
দেবীমূর্তির প্রাধান্য দেখা যায়।
সেন
আমলের ভাস্কর্যের প্রধান বৈশিষ্ট্য হলো এর অসামান্য সূক্ষ্ম কাজ এবং মূর্তির শরীরে
অলঙ্কারের আধিক্য। পাল যুগের শান্ত ভাবমূর্তির পরিবর্তে সেন যুগের মূর্তিতে এক ধরণের
রাজকীয় আভিজাত্য এবং শারীরিক সুষমার প্রকাশ ঘটত। এই সময়ের মূর্তির প্যানেলগুলোতে লতা-পাতা,
ফুল এবং দেব-দেবীর বাহনগুলোর খোদাই কাজ অত্যন্ত নিপুণ ছিল। পাথরের পাশাপাশি সেন যুগে
ধাতু ও কাঠের ভাস্কর্যেরও প্রসার ঘটেছিল। পাল ও সেন—উভয় যুগের ভাস্কর্যই
ভারতীয় উপমহাদেশের গণ্ডি পেরিয়ে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার শিল্পকলাকেও গভীরভাবে প্রভাবিত
করেছিল। মধ্যযুগীয় বাংলার এই শিল্প ঐতিহ্য আজও আমাদের সাংস্কৃতিক সমৃদ্ধির পরিচয় বহন
করে।
তোমাদের
উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ গড়ে তুলব আমরা, এটাই আমাদের প্রতিশ্রুতি
6295916282; 7076398606
জ্ঞ্যানজ্যোতি কোচিং সেন্টার
তোমাদের উজ্বল ভবিষ্যৎ গড়ে তুলব আমরা, এটাই আমাদের প্রতিশ্রুতি
অনলাইনে কোচিং নিতে হলে এবং বিভিন্ন নোট নিতে হলে এই নাম্বারে কল করুন।

