পাঠ্যক্রমের দার্শনিক ভিত্তি (Philosophical Base of Curriculum)
কারিকুলামের দার্শনিক ভিত্তি বলতে বোঝায় শিক্ষা এবং সমাজের প্রকৃতি, উদ্দেশ্য ও মূল্যবোধ সম্পর্কে মৌলিক বিশ্বাস এবং ধারণা, যা কারিকুলামের লক্ষ্য, বিষয়বস্তু এবং সংগঠনের উপর প্রভাব ফেলে। এটি কারিকুলাম কেন, কী এবং কীভাবে পড়ানো হবে—এই প্রশ্নগুলোর উত্তর দেয়।
১.
শিক্ষার লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য নির্ধারণ
শিক্ষার
চূড়ান্ত লক্ষ্য: দর্শন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের মধ্যে কী ধরনের বৈশিষ্ট্য
বা গুণাবলী তৈরি করতে চায়,
তা স্থির করে। যেমন—কিছু
দর্শন জ্ঞান অর্জনকে প্রাধান্য দেয়, আবার কিছু
দর্শন ব্যক্তিগত বিকাশে বা সামাজিক পরিবর্তনে
জোর দেয়।
শিক্ষার্থীর
ভূমিকা: দর্শন নির্ধারণ করে শিক্ষার্থী কী
কেবল জ্ঞানের নিষ্ক্রিয় গ্রহীতা হবে, নাকি সে
সক্রিয় অনুসন্ধানী হবে।
২.
বিষয়বস্তু
(Content) নির্বাচন
প্রাসঙ্গিকতা
(Relevance): কোন জ্ঞান, দক্ষতা বা মূল্যবোধ সমাজের
জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ এবং শিক্ষার্থীদের জীবনে
সবচেয়ে বেশি কাজে লাগবে,
তা দর্শন স্থির করে।
জ্ঞানের
প্রকৃতি: দর্শন স্থির করে কোন ধরনের
জ্ঞানকে (যেমন—ঐতিহ্যগত জ্ঞান,
বৈজ্ঞানিক জ্ঞান, বা আধ্যাত্মিক জ্ঞান)
কারিকুলামে স্থান দেওয়া হবে।
৩.
শিক্ষণ পদ্ধতি (Teaching Methods) নির্বাচন
শিখন-শেখানো প্রক্রিয়া: কারিকুলামে কোন ধরনের শিক্ষণ
পদ্ধতি ব্যবহার করা হবে, তা
মূলত দার্শনিক দৃষ্টিভঙ্গির উপর নির্ভর করে।
(Recitation) প্রাধান্য
দেওয়া হয়।
যেমন—
প্রগতিবাদ
(Progressivism): এই
দর্শনে সমস্যা-সমাধান (Problem-Solving) এবং অভিজ্ঞতা-ভিত্তিক
শিক্ষাকে (Experiential
Learning) প্রাধান্য দেওয়া হয়।
অস্তিত্ববাদ
(Existentialism): এই
দর্শনে ব্যক্তিগত স্বাধীনতা, পছন্দ এবং আত্ম-অনুসন্ধানে
সাহায্য করে এমন আলোচনা
ও প্রতিফলনের উপর জোর দেওয়া
হয়।
সারল্যবাদ
(Essentialism): এই
দর্শনে শিক্ষক-কেন্দ্রিক পদ্ধতি, বক্তৃতা এবং আবৃত্তিকে
জ্ঞ্যানজ্যোতি কোচিং সেন্টার
তোমাদের উজ্বল ভবিষ্যৎ গড়ে তুলব আমরা, এটাই আমাদের প্রতিশ্রুতি
অনলাইনে কোচিং নিতে হলে এবং বিভিন্ন নোট নিতে হলে এই নাম্বারে কল করুন।

