প্রশ্ন- ভাষার আধিপত্য
প্রসারে আর্থ-সামাজিক কারণের গুরুত্ব আলোচনা করো।
ভাষার আধিপত্য প্রসারে আর্থ-সামাজিক কারণগুলি অত্যন্ত শক্তিশালী ও নির্ধারক
ভূমিকা পালন করে। ঐতিহাসিকভাবে দেখা গেছে, যে জাতির অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক ক্ষমতা যত
বেশি, তাদের ভাষাও বিশ্বজুড়ে তত বেশি আধিপত্য বিস্তার করেছে। বর্তমান বিশ্বায়নের
যুগে অর্থনৈতিক সুযোগ ও সমৃদ্ধির প্রত্যাশা মানুষের ভাষাগত পছন্দকে গভীরভাবে নিয়ন্ত্রণ
করছে। যখন কোনো একটি নির্দিষ্ট ভাষা (যেমন ইংরেজি) আন্তর্জাতিক ব্যবসা-বাণিজ্য, বিজ্ঞান,
এবং উচ্চশিক্ষার প্রধান মাধ্যম হয়ে ওঠে, তখন মানুষ জীবিকার তাগিদে এবং উন্নত জীবনের
আশায় নিজের মাতৃভাষার চেয়ে সেই প্রভাবশালী ভাষাকে বেশি গুরুত্ব দিতে শুরু করে। চাকরির
বাজারে আধিপত্যশীল ভাষার দক্ষতা সাফল্যের মাপকাঠি হিসেবে গণ্য হওয়ায় সাধারণ মানুষ
অবচেতনভাবেই সেই ভাষার প্রতি ঝুঁকে পড়ে। এই অর্থনৈতিক উপযোগিতাই মূলত কোনো ভাষাকে
বৈশ্বিক বা আঞ্চলিকভাবে অপ্রতিদ্বন্দ্বী করে তোলে, যা ক্ষুদ্র ভাষাগুলোর জন্য অস্তিত্বের
সংকট তৈরি করে।
সামাজিক মর্যাদাবোধ এবং সাংস্কৃতিক আভিজাত্যও ভাষার আধিপত্য বিস্তারে গুরুত্বপূর্ণ
ভূমিকা রাখে। সমাজে প্রচলিত একটি ধারণা হলো—উন্নত বা শক্তিশালী ভাষায় কথা বলতে পারা
আভিজাত্য ও আধুনিকতার লক্ষণ। এই মনস্তাত্ত্বিক চাপের কারণে অনেক সময় শিক্ষিত মধ্যবিত্ত
সমাজ নিজেদের সন্তানদের মাতৃভাষার বদলে প্রভাবশালী ভাষায় শিক্ষিত করতে স্বাচ্ছন্দ্য
বোধ করে। এর ফলে আধিপত্যশীল ভাষাটি কেবল যোগাযোগের মাধ্যম হিসেবে নয়, বরং একটি সামাজিক
'স্ট্যাটাস সিম্বল' হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়। এভাবেই শক্তিশালী ভাষাটি দুর্বল ভাষাভাষী
মানুষের ওপর এক ধরণের মনস্তাত্ত্বিক উপনিবেশ স্থাপন করে। এছাড়া প্রচার মাধ্যম, বিনোদন
জগত এবং ইন্টারনেটের সিংহভাগ আধিপত্যশীল ভাষায় নিয়ন্ত্রিত হওয়ায় সাংস্কৃতিক আগ্রাসনের
মাধ্যমে সেই ভাষাটি জনমানসে স্থায়ী আসন গেড়ে নেয়। পরিশেষে বলা যায়, কোনো ভাষার
আধিপত্য কেবল তার ব্যাকরণগত উৎকর্ষের ওপর নয়, বরং সেই ভাষার সাথে যুক্ত অর্থনৈতিক
ক্ষমতা এবং সামাজিক প্রতিপত্তির ওপরই মূলত নির্ভর করে।
জ্ঞ্যানজ্যোতি কোচিং সেন্টার
তোমাদের উজ্বল ভবিষ্যৎ গড়ে তুলব আমরা, এটাই আমাদের প্রতিশ্রুতি
অনলাইনে কোচিং নিতে হলে এবং বিভিন্ন নোট নিতে হলে এই নাম্বারে কল করুন।

