শিল্প সমাজতত্ত্বের প্রকৃতি(Nature) এবং পরিধি(Scope) আলোচনা করো।

Nil's Niva
0

Q: What is industrial sociology? Discuss the nature and scope of industrial sociology.

প্রশ্নঃ শিল্প সমাজতত্ত্ব কী? শিল্প সমাজতত্ত্বের প্রকৃতি এবং পরিধি আলোচনা করো।        

v শিল্প সমাজবিজ্ঞানঃ

শিল্প সমাজবিজ্ঞান হল সমাজবিজ্ঞানের একটি বিশেষ শাখা যা শিল্প প্রতিষ্ঠান বা কারখানার প্রেক্ষাপটে মানুষের সামাজিক আচরণ, সম্পর্ক এবং সামাজিক সংগঠন নিয়ে আলোচনা করে। এটি প্রধানত শিল্পায়নের ফলে সমাজে আসা পরিবর্তন, শিল্প কারখানার অভ্যন্তরে শ্রমিক-মালিক সম্পর্ক, শ্রমিকদের মনোভাব, শিল্প বিরোধ এবং শিল্প সংগঠনের কাঠামোগত দিকগুলি বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে বিশ্লেষণ করে।

শিল্প সমাজবিজ্ঞানীরা দেখেন কিভাবে উৎপাদন প্রক্রিয়া, প্রযুক্তি এবং অর্থনৈতিক কাঠামো সমাজের মানুষ, তাদের পরিবার এবং বৃহত্তর সামাজিক প্রতিষ্ঠানগুলিকে প্রভাবিত করে। এর মূল লক্ষ্য হলো শিল্প পরিবেশে সামাজিক গতিশীলতা বোঝা এবং শিল্প সংক্রান্ত সমস্যাগুলির সমাধান খুঁজে বের করা। এটি শ্রমের বিভাগ, শিল্পশ্রমিকের সামাজিক জীবন, এবং শিল্পে আমলাতন্ত্রের মতো বিষয়গুলিকে গুরুত্ব দেয়।

v ১. শিল্প সমাজতত্ত্বের প্রকৃতিঃ

শিল্প সমাজতত্ত্বের প্রকৃতিকে কয়েকটি মূল বৈশিষ্ট্যের মাধ্যমে ব্যাখ্যা করা যায়:

১. বৈজ্ঞানিক অধ্যয়নঃ শিল্প সমাজতত্ত্ব একটি বিশুদ্ধ বিজ্ঞান বা তাত্ত্বিক বিজ্ঞান হিসেবে বিবেচিত। এর লক্ষ্য হলো শিল্প পরিবেশের সামাজিক বাস্তবতা সম্পর্কে জ্ঞান অর্জন করা, কোনো ব্যবহারিক সমস্যা সমাধান করা নয় (যদিও এর প্রাপ্ত জ্ঞান ফলিত ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হয়)। এটি শিল্পকর্মীদের আচরণ, শিল্প সম্পর্ক এবং সংগঠনের কাঠামো বোঝার জন্য বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি ব্যবহার করে।

২. সামাজিক সম্পর্ক এবং মিথস্ক্রিয়াঃ এই শাখার মূল ফোকাস হলো শিল্পের মধ্যে কর্মরত মানুষের পারস্পরিক সম্পর্ক। এটি আনুষ্ঠানিক এবং অনানুষ্ঠানিক উভয় ধরনের সম্পর্ককেই অধ্যয়ন করে। শ্রমিক-শ্রমিক, শ্রমিক-মালিক, এবং বিভিন্ন স্তরের কর্মচারীদের মধ্যেকার সামাজিক মিথস্ক্রিয়াগুলি এর প্রধান আলোচ্য বিষয়।

৩. সংগঠন ও সমাজের সংযোগঃ শিল্প সমাজতত্ত্ব কেবল কারখানার ভেতরের বিষয়বস্তু নিয়েই আলোচনা করে না, বরং শিল্প-সংগঠন কীভাবে বৃহত্তর সামাজিক, অর্থনৈতিক, এবং রাজনৈতিক ব্যবস্থার সাথে সম্পর্কযুক্ত ও প্রভাবিত হয়, তা পরীক্ষা করে। যেমন— শিল্পায়নের ফলে নগর সমাজের গঠন, পরিবারের উপর এর প্রভাব বা রাজনৈতিক ক্ষমতা সম্পর্কের পরিবর্তন।

৪. কাঠামোগত বিশ্লেষণঃ এটি শিল্প-সংগঠনের কাঠামো— যেমন পদমর্যাদা, ক্ষমতা এবং ভূমিকার বিন্যাস—এবং সেই কাঠামো কীভাবে কর্মপরিবেশ ও উৎপাদনশীলতাকে প্রভাবিত করে, তা বিশ্লেষণ করে। এটি সামাজিক শ্রেণির উদ্ভব ও ভূমিকা নিয়েও আলোচনা করে।

৫. সমস্যা সমাধানমুখী দৃষ্টিভঙ্গিঃ যদিও এটি একটি তাত্ত্বিক শাখা, তবুও এর বিশ্লেষণগুলি শিল্প জগতে বিদ্যমান শ্রমিক অসন্তোষ, সংঘাত, মজুরি বৈষম্য, অনুপস্থিতি এবং কাজের প্রতি অনীহা-র মতো সামাজিক সমস্যাগুলি বোঝার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এটি এই সমস্যাগুলির সামাজিক কারণ অনুসন্ধান করে।

v ২. শিল্প সমাজতত্ত্বের পরিধিঃ

শিল্প সমাজতত্ত্বের পরিধি অত্যন্ত ব্যাপক এবং এটি মূলত শিল্প সম্পর্কিত বিভিন্ন সামাজিক দিককে অন্তর্ভুক্ত করে। এর প্রধান ক্ষেত্রগুলি নিম্নরূপ:

১. শিল্প প্রতিষ্ঠানের কাঠামো ও সংগঠনঃ  শিল্প সমাজতত্ত্ব শিল্প কারখানাকে একটি সামাজিক ব্যবস্থা হিসেবে দেখে। এটি কারখানার আনুষ্ঠানিক সংগঠন, যেমন—কর্তৃত্বের স্তরবিন্যাস, নিয়মকানুন, এবং কাজের দায়িত্ব বন্টন অধ্যয়ন করে। একইসঙ্গে, এটি শ্রমিকদের মধ্যে স্বতঃস্ফূর্তভাবে গড়ে ওঠা অনানুষ্ঠানিক গোষ্ঠী, তাদের রীতিনীতি, এবং শিল্প উৎপাদনে তাদের প্রভাব নিয়ে আলোচনা করে। এই বিশ্লেষণ প্রতিষ্ঠানের অভ্যন্তরে শ্রমিকদের আচরণ বুঝতে সাহায্য করে।

২. শিল্প সম্পর্ক এবং সংঘাতঃ এই শাখাটি শিল্প ক্ষেত্রে শ্রমিক-মালিক সম্পর্ক এবং শিল্প বিরোধ-এর সামাজিক দিকগুলো বিশ্লেষণ করে। ট্রেড ইউনিয়নগুলির গঠন ও কার্যকলাপ, শিল্প বিরোধের মূল কারণ (যেমন—মজুরি বা কর্মপরিবেশ) এবং এই সংঘাতগুলো সমাধানের সামাজিক প্রক্রিয়া নিয়ে শিল্প সমাজতত্ত্ব গবেষণা করে।

৩. কাজের সামাজিক দিক ও মানব সম্পর্কঃ শিল্প সমাজতত্ত্ব কেবল অর্থনৈতিক উৎপাদন নয়, বরং কাজের সামাজিক ও মনস্তাত্ত্বিক দিকগুলোর ওপরও জোর দেয়। এটি শ্রমিকের কাজের সন্তুষ্টি, কাজের প্রতি তাদের মনোভাব, অনুপ্রেরণা এবং কর্মীদের মধ্যেকার পারস্পরিক মানব সম্পর্ক নিয়ে আলোচনা করে। এটি দেখায় যে কীভাবে ভালো মানব সম্পর্ক উৎপাদনশীলতা এবং কর্মীদের মানসিক সুস্থতার জন্য অপরিহার্য।

৪. শিল্পায়ন ও বৃহত্তর সমাজের ওপর এর প্রভাবঃ শিল্প সমাজতত্ত্ব শিল্পায়নকে সমাজের একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা হিসেবে না দেখে, বৃহত্তর সমাজের ওপর এর প্রভাব মূল্যায়ন করে। এর পরিধির অন্তর্ভুক্ত হলো শহরায়ন, সমাজের শ্রেণি কাঠামো-র পরিবর্তন, পরিবার ও স্থানীয় সম্প্রদায়ের কাঠামোগত পরিবর্তন এবং বিভিন্ন সামাজিক সমস্যার সৃষ্টি বা সমাধান।

৫. ব্যবস্থাপনা ও শ্রমিকশক্তির বিশ্লেষণঃ এই ক্ষেত্রটি ব্যবস্থাপনার বিভিন্ন শৈলী এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়া নিয়ে গবেষণা করে। একই সাথে, এটি শ্রমিকশক্তির সামাজিক উৎস, তাদের দক্ষতা, শিক্ষা এবং কর্মক্ষেত্রে তাদের গতিশীলতা বা স্থিতিশীলতা বিশ্লেষণ করে। এর লক্ষ্য হলো শিল্পে কার্যকর ও মানবিক ব্যবস্থাপনা পদ্ধতির বিকাশ ঘটানো।


জ্ঞ্যানজ্যোতি কোচিং সেন্টার

তোমাদের উজ্বল ভবিষ্যৎ গড়ে তুলব আমরা, এটাই আমাদের প্রতিশ্রুতি

অনলাইনে কোচিং নিতে হলে এবং বিভিন্ন নোট নিতে হলে এই নাম্বারে কল করুন।

Tags

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন (0)
bookstore