প্রশ্নঃ বাজারে জিনিসপত্রের চড়া দাম এই
নিয়ে দুই প্রতিবেশীর মধ্যে কাল্পনিক সংলাপ রচনা করো।
বাজারে জিনিসপত্রের
চড়া দাম এই নিয়ে দুই প্রতিবেশীর মধ্যে কাল্পনিক সংলাপ
চরিত্র:
রীতা (মধ্যবিত্ত পরিবারের গৃহিণী) ও অপর্ণা (চাকরিজীবী ও গৃহিণী)
(সকালবেলা বাজারে যাওয়ার পথে, রীতা ও অপর্ণার দেখা হয়।)
রীতা: আরে
অপর্ণা, তুমি! আজ এত সকালে বাজারে?
অপর্ণা:
আর বোলো না দিদি, জিনিসপত্রের যা দাম, সকালেই যদি ভালো সবজিগুলো না কিনতে পারি, তাহলে
তো কপালে খারাপ জিনিস জোটে আর দামও চড়া দিতে হয়। তুমিও দেখছি ঝুড়ি নিয়ে বেরিয়েছো।
রীতা: হ্যাঁ
গো, এলাম আর কি। কিন্তু কী যে দিনকাল পড়ল! বাজারে এলেই বুক ধড়ফড় করে। গত সপ্তাহে যে
পেঁয়াজ কিনেছিলাম ৩০ টাকা কেজি, আজ দেখি ৪০! তেল, ডাল, চাল—সবেরই একই অবস্থা। সীমিত
আয়ে সংসার চালানো যে কত কঠিন, তা শুধু আমরাই জানি।
অপর্ণা:
একদম ঠিক বলেছো। আমাদের মতো মধ্যবিত্তদেরই সবথেকে বেশি সমস্যা। মাইনে বাড়ে সামান্য,
কিন্তু জিনিসের দাম বাড়তে বাড়তে আকাশ ছুঁয়েছে। মাছ-মাংস তো এখন প্রায় বিলাসের বস্তু
হয়ে দাঁড়িয়েছে। মাস শেষে হিসেব মেলাতে গিয়ে মাথায় হাত পড়ে যায়।
রীতা: গত
মাসে ভাবছিলাম মেয়ের জন্য একটা নতুন জামা কিনব পুজোতে, কিন্তু বাজার খরচ দেখে সাহস
হলো না। খরচ কমাতে এখন সপ্তাহে একদিন মাছ আর একদিন মাংস রান্না করি। সবজিতেও কম দিই।
স্বাদ আর পুষ্টি দুটোতেই টান পড়ছে।
অপর্ণা:
আমার তো মনে হয়, বাজারে মনিটরিং বলে কিছু নেই। কালোবাজারি আর মজুতদারির ফলেই এই অবস্থা।
সরকার যদি কঠোর হাতে এদের নিয়ন্ত্রণ না করে, তবে সাধারণ মানুষের জীবন দুর্বিষহ হয়ে
উঠবে।
রীতা: ঠিক
বলেছ। শুধু দাম বাড়ালেই তো হয় না, আয়ও বাড়াতে হবে! না হলে মানুষ বাঁচবে কী করে?
এখন শুধু পুরনো দিনগুলোর কথা মনে পড়ে, যখন কম দামে ভালো জিনিস পাওয়া যেত।
অপর্ণা:
এখন আর ওসব ভেবে লাভ নেই দিদি। চলো, তাজা বেগুন আর সস্তা পটলের খোঁজ করি! দাম যতই হোক,
সংসার তো আর থেমে থাকবে না।
রীতা: হ্যাঁ,
চলো। আজকের মতো যতটুকু পারি বাঁচিয়ে খরচ করতে হবে। সাবধানে থেকো।
অপর্ণা:
তুমিও সাবধানে থেকো দিদি। আবার দেখা হবে।
জ্ঞ্যানজ্যোতি কোচিং সেন্টার
তোমাদের উজ্বল ভবিষ্যৎ গড়ে তুলব আমরা, এটাই আমাদের প্রতিশ্রুতি
অনলাইনে কোচিং নিতে হলে এবং বিভিন্ন নোট নিতে হলে এই নাম্বারে কল করুন।

