তক্ষশিলা বিশ্ববিদ্যালয়
প্রাচীন ভারতের ব্রাহ্মণ্য শিক্ষাব্যবস্থায় উচ্চশিক্ষার একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান ছিল তক্ষশিলা বিশ্ববিদ্যালয়। প্রাচীনতম ব্রাহ্মণ্য শিক্ষার প্রতিষ্ঠান হিসেবে এটি ইতিহাসে গুরুত্বপূর্ণ স্থান অধিকার করেছিল।

1. অবস্থান: তক্ষশিলা বিশ্ববিদ্যালয়ের
অবস্থান ছিল বর্তমান পাকিস্তানের অন্তর্গত রাওয়ালপিন্ডি থেকে 20 মাইল উত্তর-পশ্চিমে
গান্ধার রাজ্যে। প্রায় 12 মাইল ব্যাপী ছিল এই নগরীর অবস্থান। মহাভারতেও এই শিক্ষাকেন্দ্রটির
উল্লেখ পাওয়া যায়।
2. সময়সীমা: আনুমানিক খ্রিস্টপূর্ব
সপ্তম থেকে খ্রিস্টপূর্ব তৃতীয় অব্দ পর্যন্ত প্রায় 400 বছর ধরে তক্ষশিলা গৌরবময় অস্তিত্ব
বজায় রেখে চলেছিল।
3. প্রবেশাধিকার: 16 বছর বয়স হলে এই
বিশ্ববিদ্যালয়ে ব্রাহ্মণ, ক্ষত্রিয়, বৈশ্য পরিবারের সন্তানগণ শিক্ষালাভের সুযোগ পেত।
4. পরিচালনা: এই বিশ্ববিদ্যালয় পরিচালনার
ভার কৃতী অধ্যাপকদের ওপর ন্যস্ত ছিল।
5. শিক্ষাকাল: শিক্ষার্থীরা এখানে
৪ বছর ধরে শিক্ষালাভ করত। প্রাথমিক শিক্ষা শেষ করার পর শিক্ষার্থীরা এখানে উচ্চশিক্ষা
লাভ করতে আসত।
6. পাঠ্যক্রম: তক্ষশিলার পাঠ্যসূচি
ছিল ব্যাপক। পাঠ্যসূচিতে বিভিন্ন ধর্মশাস্ত্র ও ব্যাবহারিক শিক্ষার ওপর বিশেষ জোর দেওয়া
হত। তক্ষশিলার পাঠ্যক্রমের মধ্যে ছিল চতুর্বেদ, ইতিহাস, দর্শন, কৃষি, বাণিজ্য, রাজকর্ম,
পশুপালন, গৃহনির্মাণ, চিকিৎসাবিদ্যা ইত্যাদি।
7. শিক্ষাদান পদ্ধতি: তক্ষশিলায় শিক্ষণ পদ্ধতি
হিসেবে আবৃত্তির ওপর গুরুত্ব দেওয়া হত। একই জিনিস পুনরাবৃত্তির মাধ্যমে শিক্ষার্থীকে
আবৃত্তি করতে হত। এ ছাড়া ব্যক্তিগত ও দলগত শিক্ষণ পদ্ধতিও প্রচলিত ছিল। এখানে উচ্চশ্রেণির
শিক্ষার্থীদের দিয়ে নিম্নশ্রেণিকে পাঠদান প্রক্রিয়ার রীতি প্রচলিত ছিল। তা থেকে পরবর্তীকালে
ভারতীয় শিক্ষাব্যবস্থায় 'সর্দার পড়ো' (Monitorial System) প্রথার সৃষ্টি হয়েছিল।
8. শিক্ষার খরচ: তক্ষশিলায় শিক্ষার্থীদের
বেতন দিয়ে পড়তে হত। দরিদ্র ও মেধাবী শিক্ষার্থী অর্থ দিতে না পারলে তার পরিবর্তে গুরুগৃহে
নানা পরিশ্রম করতে হত। এইভাবে তারা শিক্ষালাভের সুযোগ পেত।
9. শৃঙ্খলা: ছাত্রদের বিশেষভাবে
শৃঙ্খলা মেনে চলতে হত।
10. শিক্ষক: তক্ষশিলায় কোনো উল্লেখযোগ্য
খ্যাতনামা অধ্যাপক বিশেষ ছিল না। তবে সেখানকার অধ্যাপকগণ একাধিক বিষয়ে বিশেষজ্ঞ ছিলেন।
অধ্যাপকদের মধ্যে নানা শ্রেণি ছিল।
11. পরীক্ষা পদ্ধতি: তক্ষশিলাতে শিক্ষাক্রম
শেষ হওয়ার পর শিক্ষার্থীদের কোনোরকম লিখিত পরীক্ষা নেওয়া হত না। মৌখিক পরীক্ষার মাধ্যমে
শিক্ষার্থীদের অধীত জ্ঞান পরিমাপ করা হত। এ ছাড়াও বিতর্কসভার মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের
জ্ঞান যাচাই করা হত।
প্রাচীন ভারতে উচ্চশিক্ষার
কেন্দ্র হিসেবে তক্ষশিলার অবদান অনস্বীকার্য। এই বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার মান ছিল উন্নত
মানের। এই বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যাবহারিক শিক্ষা ছিল বাস্তবভিত্তিক। তাই তক্ষশিলার এই
ব্যাবহারিক শিক্ষাকে আজও শিক্ষাবিদরা শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন।
জ্ঞ্যানজ্যোতি কোচিং
সেন্টার
তোমাদের উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ গড়ে তুলব আমরা, এটাই আমাদের প্রতিশ্রুতি
6295916282; 7076398606
জ্ঞ্যানজ্যোতি কোচিং সেন্টার
তোমাদের উজ্বল ভবিষ্যৎ গড়ে তুলব আমরা, এটাই আমাদের প্রতিশ্রুতি
অনলাইনে কোচিং নিতে হলে এবং বিভিন্ন নোট নিতে হলে এই নাম্বারে কল করুন।